What do you want to do?
রিটায়ারমেন্ট এবং পেনশন প্ল্যান কী?
রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান হলো এক ধরনের লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান, যা অবসর নেওয়ার পরে আয় এবং আর্থিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান বলতে কোনো ব্যক্তির দ্বারা তাঁর চাকরির পরের সময়ের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে করা যে কোনো কৌশলগত আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে বোঝায়।
একটা রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো একজন ব্যক্তিকে তার কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরে তাঁকে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে সাহায্য করা।
পেনশন প্ল্যান হলো একটা নির্দিষ্ট ধরনের রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান (যা নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে সরকারি স্কিম বা ব্যক্তিগত পেনশন প্ল্যান হিসেবে দেওয়া হয়), যা পেনশন ফান্ডে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ করার বিনিময়ে অবসরের পরে একটা পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত আয় (পেনশন নামে পরিচিত) প্রদান করে।
পেনশন প্ল্যানে রিটায়ারমেন্ট কর্পাস জমা হওয়ার পরে অ্যানুইটি প্ল্যান কেনার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত আয় বা পেআউট প্রদান করা হয়।
...Read More
এটা কীভাবে কাজ করে?
ভারতের পেনশন প্ল্যানগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আপনি কাজ করার সময় একটা কর্পাস তৈরি করতে পারেন এবং অবসর নেওয়ার পরে নিয়মিত আয় পেতে পারেন। পেনশন প্ল্যানের দুটো ধাপ থাকে:
টাকা সঞ্চয় করার বা জমানোর ধাপ :
টাকা সঞ্চয় করার বা জমানোর ধাপে, আপনাকে নিয়মিতভাবে পেনশন প্ল্যানে বিনিয়োগ করতে হবে। আপনার বিনিয়োগ সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকবে এবং আপনার জন্য একটা শক্তিশালী কর্পাস গড়ে তুলবে।
ভেস্টিং ফেজ (সম্পূর্ণ মালিকানা পাওয়ার সময়) :
যখন আপনি আপনার পূর্বনির্ধারিত রিটায়ারমেন্টের বয়সে পৌঁছবেন (যেমন, 60 বছর), যা ভেস্টিং এজ হিসেবেও পরিচিত, তখন আপনি আপনার সঞ্চয় করা কর্পাসের থেকে নিয়মিত পেনশন অ্যানুইটি পাওয়া শুরু করবেন।
আসুন জেনে নেওয়া যাক যে ভারতে বিভিন্ন ধরনের পেনশন প্ল্যান কীভাবে কাজ করে:
1. সরকারের দ্বারা সমর্থিত পেনশন স্কিম
এগুলো জনপ্রিয় কারণ এগুলো নিয়মিত আয় বা রিটার্ন দেয়, আর তাই যাঁরা কম ঝুঁকির রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান খুঁজছেন তাঁদের জন্য এটা উপযুক্ত।
a. এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF)
এটা কীভাবে কাজ করে: এটা এমন একটা বাধ্যতামূলক পেনশন প্ল্যান, যা সেইসব কোম্পানির বেতনভোগী (স্যালারিড) কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য যেখানে 20 বা তার বেশি মানুষ কাজ করে।
এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ডস অ্যান্ড মিসেলেনিয়াস প্রভিশনস অ্যাক্ট, 1952vii অনুযায়ী, কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা উভয়ই কর্মচারীর বেসিক স্যালারি এবং ডিয়ারনেস অ্যালাউন্সের (DA) 12% করে EPF অ্যাকাউন্টে জমা দেন। কর্মচারীর পেনশনযোগ্য স্যালারির 8.33% (সর্বোচ্চ 15, 000 টাকা পর্যন্ত) এমপ্লয়ীজ পেনশন স্কিমে (EPS)-এ যায় এবং বাকিটা EPF-এ জমা হয়।
বেনিফিট বা সুবিধা: যখন কেউ অবসর নেন বা চাকরি ছেড়ে দেন, তখন EPF-এ জমা থাকা মোট টাকা (জমা হওয়া সুদ সহ) ফেরত নেওয়া যাবে। EPS অবসর নেওয়ার (রিটায়ারমেন্ট) পরে মাসিক পেনশন দেয়, যদি কর্মচারীর অন্তত 10 বছর চাকরি থাকে এবং তিনি 58 বছর বয়সে অবসর (রিটায়ারমেন্ট) নেন। তাঁরা 50 বছর বয়স থেকে কম পরিমাণে পেনশন পাওয়া শুরু করতে পারেন। এছাড়াও, এটা পরিবারের জন্যেও সুবিধা দেয়, যেমন, EPF অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী বা সন্তানের জন্য পেনশন দেওয়া হয়।
ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে সুবিধা: আয়কর আইন, 1961vii-এর ধারা 80C অনুযায়ী EPF-এ জমানো টাকা ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড়ের জন্য যোগ্য।
b. ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)
এটা কীভাবে কাজ করে: ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) হলো ভারতের 18 থেকে 70 বছর বয়সী নাগরিকদের জন্য একটা স্বেচ্ছামূলক (ভলান্টারি) রিটায়ারমেন্ট সেভিংস স্কিম। পেনশন অ্যাকাউন্টে জমা করা টাকা ইক্যুইটি, ডেট (ঋণ) এবং সরকারি সিকিউরিটিগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ করা হয়। NPS-এর সাবস্ক্রাইবাররা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী কোন ধরনের সম্পদে (ইক্যুইটি, ডেট (ঋণ) বা সরকারি সিকিউরিটি) কতটা বিনিয়োগ হবে তা ঠিক করতে পারেন, অথবা ‘অটো চয়েস’ অপশন বেছে নিতে পারেন, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের ভাগকে নিজে থেকেই অ্যাডজাস্ট করে।
নমনীয়তা (নিজের মতো করে বেছে নেওয়া): NPS আপনাকে নিজের পেনশন ফান্ড ম্যানেজার এবং স্কিম অপশন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেয়।
পেআউট: যদি সাবস্ক্রাইবার 60 বছর বয়সে স্বাভাবিকভাবে NPS-এর থেকে বেরিয়ে যান, তাহলে তিনি মোট জমা টাকার 60% একসাথে তুলে নিতে পারবেন। বাকি 40% টাকা দিয়ে তাঁকে একটা অ্যানুইটি সার্ভিস প্রোভাইডার (ASP)-এর থেকে অ্যানুইটি প্ল্যান কিনতে হবে, যাতে অবসর নেওয়ার পরে তিনি নিয়মিতভাবে পেনশন পান।viii
ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে সুবিধা: ধারা 80CCD(1) অনুযায়ী যে টাকা জমানো হয় সেটা ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়ার জন্য যোগ্য (ধারা 80CCE অনুযায়ী চাকরিজীবীদের জন্য বেসিক পে + DA-এর 10% পর্যন্ত টাকার উপর ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে, আর নিজের ব্যবসা করলে মোট আয়ের 20% পর্যন্ত টাকার উপর ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে। এই দুটো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 1.5 লাখ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে) এবং ধারা 80CCD(1B) অনুযায়ী 50,000 টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড় পাওয়া যাবে। যদি সাবস্ক্রাইবার এমপ্লয়ার কন্ট্রিবিউশন পান সেক্ষেত্রেও তিনি ধারা 80CCD(2) অনুযায়ী সেই টাকাটার ওপরও ইনকাম ট্যাক্সে (কর) ছাড় পেতে পারেন, তবে NPS, স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং অনুমোদিত সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ড — এই তিনটে স্কিমে অফিস আপনার জন্য যে টাকা দেয়, সেগুলো সব মিলিয়ে বছরে 7.5 লাখ টাকা পর্যন্তই ট্যাক্সে (কর) ছাড় পাওয়া যায়, এর বেশি হলে সেই বাড়তি টাকার ওপর ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে কোনোরকম ছাড় পাওয়া যাবে না।ix
c. অটল পেনশন যোজনা (APY):
- এটা কিভাবে কাজ করে: অটল পেনশন যোজনা হলো সরকারের একটা পেনশন স্কিম, মূলত যাঁদের নিয়মিত চাকরি নেই বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন তাঁদের জন্য। APY 18 থেকে 40 বছর বয়সের যে কোনো ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। সাবস্ক্রাইবাররা 60 বছর বয়সে এই স্কিমের থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন এবং প্রতি মাসে পেনশন পাবেন।
- বেনিফিট বা সুবিধা: অটল পেনশন যোজনাতে টাকা জমালে সাবস্ক্রাইবাররা প্রতি মাসে ন্যূনতম 1000 টাকা থেকে 5000 টাকা X পর্যন্ত একটা নিশ্চিত (guaranteed) পেনশন পাবেন।
d. পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF):
- এটা কিভাবে কাজ করে: PPF-কে একটা পেনশন প্ল্যান হিসেবেই গণ্য করা যেতে পারে, যা আপনার রিটায়ারমেন্টের পরে আপনাকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয়। PPF হলো ভারতের সব নাগরিকদের জন্য একটা দীর্ঘমেয়াদী সেভিংস (সঞ্চয়) স্কিম যেখানে বছরে সর্বনিম্ন 500 টাকা জমা করা যাবে এবং সর্বোচ্চ 1,50,000 টাকা জমা করা যাবে। একটা PPF অ্যাকাউন্ট 15 বছর সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই ম্যাচিওর হয়।
বেনিফিট বা সুবিধা: PPF-এ টাকা রাখলে নিশ্চিত এবং ট্যাক্স-ফ্রি (করমুক্ত) রিটার্ন পাওয়া যায়, এবং এটাকে খুব নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের উপায় হিসেবে গণ্য করা হয়। PPF-এ জমা হওয়া টাকাকে রিটায়ারমেন্ট বা অবসর নেওয়ার পরে প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। PPF-এর অ্যাকাউন্ট থেকে তৃতীয় আর্থিক বছর থেকে ষষ্ঠ আর্থিক বছরের মধ্যে লোন (ঋণ) নেওয়া যেতে পারে। সপ্তম আর্থিক বছর থেকে PPF-এর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি বছর টাকা তোলা যাবে।
- ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে সুবিধা: PPF-এ যে টাকা জমা হয়, সেটা ধারা 80C অনুযায়ী ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড়ের জন্য যোগ্য এবং এর থেকে যে সুদ পাওয়া যায় আর অ্যাকাউন্ট ম্যাচিওর হওয়ার পরে যে সম্পূর্ণ টাকা পাওয়া যায়, সেটাও ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড়ের জন্য যোগ্য।
2. প্রাইভেট পেনশন প্ল্যান (অ্যানুইটি প্ল্যান)
ভারতে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো অ্যানুইটি প্ল্যান দেয়। এখানে আপনি যদি একবারে একটা বড় পরিমাণ টাকা জমা দেন বা নিয়মিতভাবে কিছু টাকা জমা দেন সেক্ষেত্রে সেই টাকার বদলে কোম্পানি আপনাকে আপনার সারা জীবনের জন্য বা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটা নিশ্চিত আয় দেবে।
এগুলো কিভাবে কাজ করে:
একটা অ্যানুইটি প্ল্যানে, আপনি আপনার পছন্দের লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রোভাইডারকে একবারে বা নিয়মিতভাবে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেমেন্ট করেন। এর পরিবর্তে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা আপনার বাকি জীবনের জন্য একটা নিশ্চিত ইনকাম বা আয় (অ্যানুইটি) দেয়। এই ইনকাম বা আয়টা অবিলম্বে শুরু হতে পারে (ইমিডিয়েট অ্যানুইটি), বা কিছু সময় পরে (ডেফার্ড অ্যানুইটি) শুরু হতে পারে। আপনার সম্ভাব্য আয় কত হবে সেটা জানতে, এবং সঠিক অপশন বা বিকল্প বেছে নেওয়ার জন্য, আপনি আপনার বিনিয়োগের পরিমাণ এবং রিটায়ারমেন্টের লক্ষ্য অনুযায়ী একটা অ্যানুইটি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যানুইটি প্ল্যানের ধরন:
আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যানুইটির ধরন বেছে নিতে পারেন:
ইমিডিয়েট অ্যানুইটি প্ল্যান: নামের থেকে যেমনটা বোঝা যাচ্ছে, আপনি একবারে একটা বড় পরিমাণ টাকা পেমেন্ট করেন এবং অবিলম্বে মাসিক পেনশন পেতে শুরু করেন।
ডেফার্ড অ্যানুইটি প্ল্যান: আপনি একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা দেন (অ্যাকুমুলেশন ফেজ), এবং তারপরে আপনার বেছে নেওয়া ডেফার্মেন্ট পিরিয়ডের পরে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। HDFC Life স্মার্ট পেনশন প্লাস হলো একটা একক প্ল্যান, যা আপনাকে ইমিডিয়েট (অবিলম্বে) এবং ডেফার্ড (বিলম্বিত) অ্যানুইটি—দুটোই দেয়।
লাইফ অ্যানুইটি: এই ক্ষেত্রে, পেনশনের টাকাটা আপনাকে সারা জীবনের জন্য দেওয়া হয়। আপনি এটাকে ‘সিঙ্গেল লাইফ’ হিসেবে (শুধু আপনার জন্য) বা ‘জয়েন্ট লাইফ’ হিসেবে (আপনার এবং আপনার স্বামীর/স্ত্রীর জন্য) বেছে নিতে পারেন।
প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়া সহ লাইফ অ্যানুইটি: এই অপশন বা বিকল্পটা নিলে, আপনি সারা জীবনের জন্য পেনশন পাবেন, কিন্তু আপনার মৃত্যুর পরে আপনার দ্বারা মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) পেমেন্ট করা প্রিমিয়ামের একটা নির্দিষ্ট শতাংশ ফেরত পাবেন। HDFC Life স্মার্ট পেনশন প্লাস-এ আপনার কাছে লাইফ অ্যানুইটি নেওয়ার অপশন (বিকল্প) আছে, যেখানে আপনার পেমেন্ট করা মোট প্রিমিয়ামের একটা নির্দিষ্ট শতাংশ ফেরত পাওয়া যাবে।
অ্যানুইটি সার্টেন (নিশ্চিত অ্যানুইটি): আপনার মৃত্যু হলেও, পেনশনের পরিমাণ নিশ্চিত নির্দিষ্ট সংখ্যক বছরের জন্য প্রদান করা হবে। যদি আপনি গ্যারান্টিড পিরিয়ড (নিশ্চিত সময়) শেষ হওয়ার আগেই মারা যান, তাহলে আপনার দ্বারা মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) অবশিষ্ট পেনশনের পরিমাণ পাবেন।
গ্যারান্টিড পিরিয়ড (নিশ্চিত সময়) অ্যানুইটি: এটা অ্যানুইটি সার্টেন (নিশ্চিত অ্যানুইটি)-এর মতোই, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য—যেমন 5, 10, 15 বা 20 বছর।
লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাথে পেনশন প্ল্যান (ULIPs): এই পেনশন প্ল্যানটা হলো একটা ইউনিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান (ULIP), যা লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ইনভেস্টমেন্টের (বিনিয়োগ) সুবিধা দুটোই একসাথে দেয়। প্রিমিয়ামের একটা অংশ লাইফ কভার দেওয়ার জন্য যায়, আর বাকি অংশটা মার্কেট-লিঙ্কড অ্যাসেট/ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। রিটার্ন সম্পূর্ণভাবে মার্কেটের পারফর্মেন্সের উপর নির্ভর করে। HDFC Life স্মার্ট পেনশন প্ল্যান তখনই উপযুক্ত হবে, যদি আপনি অ্যাকুমুলেশন ফেজে মার্কেট-লিঙ্কড রিটার্নের মাধ্যমে টাকা জমা করতে চান এবং রিটায়ারমেন্টের পরে নিয়মিতভাবে ইনকাম বা আয় পেতে চান। এই প্ল্যানের সঙ্গে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সুবিধাও পাওয়া যায়।
ট্যাক্স (কর) সংক্রান্ত বিষয়: প্রাইভেট পেনশন প্ল্যানে আপনি যে প্রিমিয়াম দেন, তার উপর আয়কর আইন, 1961-এর ধারা 80C অনুযায়ী ট্যাক্সের (কর) ক্ষেত্রে ছাড় দাবি করতে পারেন।
সঠিক পেনশন প্ল্যানটা আপনার আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বা ক্ষমতা, বর্তমান বয়স ও অবসর নেওয়ার বয়স, এবং আপনার চাকরির অবস্থার উপর নির্ভর করে বেছে নেওয়া হয়। আপনি রিটায়ারমেন্ট ক্যালকুলেটরের মতো টুল ব্যবহার করে, এবং একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সঙ্গে কথা বলে আপনার জন্য সবথেকে উপযুক্ত পেনশন প্ল্যান বেছে নিতে পারবেন।
রিটায়ারমেন্ট এবং পেনশন প্ল্যানে কেন বিনিয়োগ করবেন?
আপনার বয়স যাই হোক না কেন, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানে বিনিয়োগ করা হলো আপনার আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে কিছু কারণ দেওয়া হলো যেগুলো দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে কেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানে বিনিয়োগ শুরু করা প্রয়োজন:
কম্পাউন্ডিং-এর (চক্রবৃদ্ধি হারে টাকা বাড়তে থাকা) শক্তি
কম্পাউন্ডিং-এর (চক্রবৃদ্ধি হারে টাকা বাড়তে থাকা) শক্তি হলো তাড়াতাড়ি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান করতে শুরু করার সবথেকে বড় সুবিধা।
শুরুতে যদি আপনি অল্প টাকা দিয়ে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন, তবুও সেটা আপনাকে চক্রবৃদ্ধি হারের (কম্পাউন্ডিং) সুবিধা নিতে সাহায্য করবে — যদি আপনি নিয়মিত বিনিয়োগ করা চালিয়ে যান এবং পরে ধীরে ধীরে টাকার পরিমাণ বাড়ান।
সহজে বলতে গেলে, চক্রবৃদ্ধি হারের (কম্পাউন্ডিং) সাহায্যে আপনার বিনিয়োগ প্রথমে রিটার্ন দেবে, আর সেই রিটার্ন আবার আরও রিটার্ন তৈরি করবে।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি 25 বছর বয়সে বার্ষিক 8% হারে প্রতি মাসে 5,000 টাকা বিনিয়োগ করতে শুরু করেন তাহলে 60 বছর বয়সে তাঁর কাছে প্রায় 1.15 কোটি টাকা জমে যেতে পারে।
যদি কেউ 35 বছর বয়সে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন, তাহলে 60 বছর বয়সে তাঁর মোট টাকার পরিমাণ কমে প্রায় 47.87 লাখ টাকা হয়ে যাবে। আপনি কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নিজের রিটার্ন হিসাব করতে পারেন।
...Read More
আকর্ষণীয় ট্যাক্স বেনিফিট (করের ক্ষেত্রে ছাড়)
ভারত সরকার NPS, PPF, EPF ইত্যাদির মতো সরকারের দ্বারা সমর্থিত রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানগুলোর ক্ষেত্রে ট্যাক্স (কর) বাঁচানোর সুবিধা দেয়, যাতে মানুষ রিটায়ারমেন্টের জন্য সঞ্চয় করতে উৎসাহিত হয়। আপনি প্রাইভেট লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভিত্তিক রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের ক্ষেত্রেও ট্যাক্সের সুবিধা নিতে পারেন।
...Read More
আর্থিক স্বাধীনতা
যদি আপনার কাছে রিটায়ারমেন্ট কর্পাস থাকে, তাহলে আপনি মানসিক শান্তি এবং আত্মবিশ্বাস পাবেন, এবং নিজের মতো করে অবসর নিতে পারবেন। রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের মাধ্যমে জমা হওয়া টাকা আপনাকে আপনার জীবনের মানকে বজায় রাখতে সাহায্য করবে, এবং সম্পূর্ণ আর্থিক স্বাধীনতার সাথে আপনার শখ ও লক্ষ্যগুলোকে পূরণ করতে দেবে।
...Read More
মার্কেটের (বাজার) ওঠা-নামাকে সামলানো
আপনি যদি তাড়াতাড়ি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং করতে শুরু করেন, তাহলে আপনি মার্কেটের অনিশ্চয়তাকে সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং-এর ক্ষেত্রে, যদি আপনার কাছে বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘ সময় থাকে, তাহলে আপনি মার্কেটের খারাপ সময়কে ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। ফান্ডস ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ইক্যুইটিজ গত 20 বছরে প্রায় 15% রিটার্ন দিয়েছেxii।
...Read More
জীবনকাল বাড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচের বৃদ্ধি
ভারতের মানুষের জীবনকাল ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর মানে হলো, আপনার রিটায়ারমেন্টের সময়কাল আপনার বাবা-মায়ের থেকে দীর্ঘ হবে, তাই বেশি পরিমাণ সঞ্চয় (কর্পাস) করার প্রয়োজন হবে।
ভারতে স্বাস্থ্যসেবার খরচও বাড়ছে, এবং এটা প্রায়শই রিটেইল ইনফ্লেশনের থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
রিটায়ারমেন্টের সময় প্রধান খরচগুলোর মধ্যে একটা হলো চিকিৎসার খরচ। তাই যত তাড়াতাড়ি শুরু করবেন, তত বেশি সময় পাবেন অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য পর্যাপ্ত সঞ্চয় তৈরি করার, যা আপনার পরিবারের উপর আর্থিক চাপকে কমাবে।
...Read More
সামাজিক নিরাপত্তার অভাব ও পরিবারের থেকে কম সহায়তা পাওয়া
দুর্ভাগ্যবশত, ভারতে কোনো সার্বজনীন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম নেই; তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঠিক রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানে বিনিয়োগ শুরু করা খুবই জরুরি।
রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের ক্ষেত্রে সরকার ও প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে।
প্রথাগতভাবে, ভারতের যৌথ পরিবারগুলোতে অল্প বয়স্করা তাঁদের পরিবারের বয়স্ক মানুষদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিত, কিন্তু বর্তমানে যেহেতু যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব কমে যাচ্ছে এবং
নিউক্লিয়ার পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে আর পরিবারের সদস্যরা অন্য শহরে চলে যাচ্ছে সেই কারণে এই আর্থিক সহায়তা করার প্রবণতাও কমে যাচ্ছে।
...Read More
সঠিক প্ল্যান কিনতে সাহায্য চাই?
আমাদের বিশেষজ্ঞ আপনাকে অনলাইনে সঠিক প্ল্যান বেছে নিতে সাহায্য করবে।
আমাদের সঙ্গে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারেন।
বিদ্যমান পলিসির সহায়তার জন্য এখানে ক্লিক করুন। .
HDFC Life-এর অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ আপনাকে সহায়তা করবেন।
৯৯.৬৮% দাবি নিষ্পত্তি অনুপাত
(২০২৪-২০২৫ অর্থবছর)
~৫ কোটি সুরক্ষিত জীবন
(২০২৪-২০২৫ অর্থবছর)**
৯৯.৬৮% দাবি নিষ্পত্তি অনুপাত
(২০২৪-২০২৫ অর্থবছর)
~৫ কোটি সুরক্ষিত জীবন
(২০২৪-২০২৫ অর্থবছর)**
ARN - EC/11/25/28641-BI